প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৭ এএম
34
সোমবার ০৫, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --
ছবি: সংগৃহীত
বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ। রুপোলি দুনিয়ার সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে তার নাম। কিন্তু তার মা সুজান টরকোটের জীবন একেবারেই অন্য রকম। মেয়ে যখন একের পর এক ছবিতে অভিনয় করে জনপ্রিয়তার শিখরে উঠছেন, তখন সুজান বেছে নিয়েছেন সাধারণ জীবন। তামিলনাড়ুর প্রত্যন্ত এলাকায় থেকে সমাজসেবা, শিক্ষা এবং আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিশুদের জন্য কাজ করে চলেছেন ক্যাটরিনার মা। এমনকি, সেখানে দিনের অনেকটা সময় বিদ্যুৎও থাকে না।
সুজান আগে লন্ডনে থাকতেন। ২০০৮ সালে সেখান থেকে তামিলনাড়ুতে চলে আসেন তিনি। গ্রামাঞ্চলের শিশুদের উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে গড়ে তোলেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। প্রথমে পড়ুয়াদের জন্য বিনামূল্যে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা থেকে শুরু করে পরে স্বাস্থ্য এবং শিশুদের সুরক্ষার জন্য কাজ শুরু করে সংস্থাটি।
এর পর ২০১৫ সালে সুজান তৈরি করেন 'মাউন্টেন ভিউ স্কুল'। শুরুতে তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সি ৩০ জনের কম শিশুকে নিয়ে স্কুলটি শুরু করেছিলেন তিনি। মূলত আশপাশের গ্রামের আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুরাই সেখানে পড়ত। সময়ের সঙ্গে স্কুলটি বড় হয়ে ওঠে। বর্তমানে সেখানে ৩০০'র উপরে ছাত্রছাত্রী আছে।
আট সন্তানকে একা হাতে বড় করেছেন সুজান। মায়ের জীবন নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে ক্যাটরিনা বলেছিলেন, 'আমার মা মাদুরাইয়ে থাকেন। সেখানে তিনি শিশুদের জন্য একটি স্কুল তৈরি করেছেন। তিনি নিজেই শিক্ষকতা করেন। সেখানে তিনি খুব খুশি। মায়ের সমাজসেবা এবং আশীর্বাদের কারণেই আমি জীবনে এতটা এগোতে পেরেছি।'
মাদুরাইয়ে মায়ের জীবন যে খুব সহজ নয়, সে কথাও জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। ক্যাটরিনা বলেছিলেন, 'ওখানে থাকা সহজ নয়। সব সময়ে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। দিনে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। কখনও আমি মায়ের সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলতে চাইলে তা সম্ভব হয় না। কারণ বিদ্যুৎ থাকে না, কখনও আবার ইন্টারনেটও থাকে না। তখন সাধারণ ফোনেই কথা বলি।' ক্যাটরিনা জানিয়েছিলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের কোনও ব্যবস্থা নেই। সেই পরিস্থিতিতেই বছরের পর বছর ধরে রয়েছেন ক্যাটরিনার মা সুজান।
সাক্ষাৎকারে নিজের ছোটবেলার কথাও বলেছিলেন ক্যাটরিনা। জানিয়েছিলেন, ছোটবেলায় যে দেশগুলিতে তিনি থেকেছেন, সেখানকার অনেক মানুষই দারিদ্রসীমার নীচে জীবন কাটাতেন। মায়ের সমাজসেবার কাজের কারণে ছোট থেকেই সেই বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন তিনি এবং তার ভাইবোনেরা।